বিশ্রাম ঘুম ও বিনোদনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর

আজকের আমাদের পোষ্টের আলোচ্য বিষয় হলো বিশ্রাম, ঘুম ও বিনোদনের প্রয়োজনীয়তা। আমরা অনেকেই ঘুমও বিনোদনের প্রয়োজনীয়তা জানিনা সেজন্য নিজেদেরকে এগুলা থেকে বঞ্চিত করি। তাই আজকে আমরা আপনাদের সাথে শেয়ার করব ঘুম ও বিনোদনের প্রয়োজনীয়তা।
                                                                     
পর্যাপ্ত ঘুমের উপকারিতা

বিশ্রাম, ঘুম ও বিনোদনের প্রয়োজনীয়তা

শরীর সুস্থ না থাকলে মন ভালো থাকে না। ফলে কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পূর্ণ করা যায় না। কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন এবং স্বাচ্ছন্দে জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন নিজেকে সুস্থ রাখা। শুধু ব্যায়াম করলেই শরীর সুস্থ রাখা যায় না। আমাদের দেহে খাদ্য ও পানির যেমন প্রয়োজন তেমনি বিশ্রাম ও ঘুমেরও প্রয়োজন রয়েছে। 

শরীর সুস্থ রাখার জন্য ব্যায়ামের পর শরীর ও মনের বিশ্রাম এবং ঘুমের প্রয়োজন। চলাফেরা, কাজকর্ম ও ব্যায়ামের পর শরীর পরিশ্রান্ত হয়, শরীরের জীবকোষগুলো ক্ষয় হতে থাকে। তখন আমরা অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়ি। শরীরের জীবকোষগুলোর ক্ষয়পুরণ ও পূর্বাবস্থায় ফিরে আসার জন্য বিশ্রামের প্রয়োজন। বিশ্রামে শরীরের ক্লান্তি ও অবসাদ দূর হয়। 

বিশ্রাম ও ঘুমের পরিবেশ শান্ত ও নির্জন হলে ভালো ঘুম হবে এবং দেহ ও মনের বিকাশ অব্যাহত থাকবে। ঘুমের সময় দেহের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্থির হয়ে পূর্ণ বিশ্রামে থাকে এবং শ্বাসপ্রশ্বাস ও হজমশক্তির কাজ সুশৃঙ্খলভাবে চলতে থাকে। বিশ্রাম ও ঘুমের পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য বিনোদনও একটি মাধ্যম।

যখন কোনো ব্যক্তি স্বতস্ফূর্তভাবে আনন্দ সহকারে তার সময় কাটায় তাকে চিত্তবিনোদন বলে। খেলাধুলা চিত্তবিনোদনের একটি মাধ্যম। খেলাধুলার মাধ্যমে চিত্তবিনোদন ছাড়াও সমাজে আরো বহু ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা আছে। যেমন- ভ্রমনের মাধ্যমে বিনোদন, সিনেমা, ও টিভির অনুষ্ঠান দেখে বিনোদন, নাটক উপভোগের মাধ্যমে বিনোদন, বনভোজনের মাধ্যমে বিনোদন, বই পড়ার মাধ্যমে বিনোদন, গল্প করার মাধ্যমে বিনোদন ইত্যাদি। সমাজে বসবাসরত মানুষের আগ্রহ ও চিন্তাধারা ভিন্ন হওয়ায় বিনোদনের ধারাও ভিন্ন। যে বিনোদনের মাধ্যমে কিছু শেখা যায়, তাকে শিক্ষামূলক বিনোদন বলে। যেমন:

১. শিক্ষামূলক গ্রন্থাবলি পাঠ: বিভিন্ন ধরনের গ্রন্থ পাঠের সাহায্যে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান লাভ করতে পারে। কে কী ধরনের গ্রন্থাবলি পাঠ করবে তা নিজের ব্যক্তিগত আগ্রহের উপর নির্ভর করে। কেউ গল্পের বই পড়ে, কেউ ধর্মীয় বই পড়ে, কেউ উপন্যাস বা ক্রীড়া বিষয়ক ম্যাগাজিন পড়ে জ্ঞান লাভ করে থাকে।

২. টিভি ও কম্পিউটারের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে: বর্তমানে কম্পিউটার ও টেলিভিশনে বহু ধরনের শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান দেখানো হয়। তা দেখে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জন ও চিত্তবিনোদন করে থাকে। টিভিতে খেলাধুলা, ম্যাগাজিন শো, বিতর্ক অনুষ্ঠান দেখে এবং সেই সাথে স্মার্টফোন এবং কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের গেমস খেলার মাধ্যমে আনন্দ লাভ করে থাকে শিক্ষার্থীরা।

৩. আবৃত্তি ও সংগীত: অনেক পরিবারের মধ্যে আবৃত্তি ও সংগীতচর্চার মাধ্যমে অবসর সময় কাটানোর প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি ও সংগীতে অংশগ্রহণ করেও শিক্ষার্থীরা প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায় ও চিত্তবিনোদন করে থাকে।

৪. ভ্রমণ: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সময় বা পরীক্ষা শেষে অনেকে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যায় বা বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান দেখতে ভ্রমণকে বেছে নেয়। ভ্রমণের জন্য কেউ কেউ দেশে বা বিদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে যায়। কখনো কখনো পরিবারের সবাই মিলে অথবা ক্লাসের সহপাঠি ও শিক্ষকবৃন্দ মিলে বনভোজনের জন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যখ্যাত স্থান, সমুদ্রতীর, ইতিহাসখ্যাত দর্শনীয়

পর্যাপ্ত ঘুমের উপকারিতা

বয়স ও শারীরিক গঠনের উপর বিশ্রাম ও ঘুমের চাহিদার তারতম্য হয়ে থাকে। যারা শিশু, তাদের বিশ্রাম ও ঘুমের চাহিদা একরকম। যারা কিশোর, তাদের বিশ্রাম ও ঘুমের চাহিদা ভিন্নতর। শিশু, যুবক ও বয়স্কদের বিশ্রাম ও ঘুমের চাহিদার পার্থক্য রয়েছে। শৈশবকাল হচ্ছে শিশুর বেড়ে উঠার সময়। এ সময় শিশু যেমন শারীরিকভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়, তেমনি মানসিক বিকাশও ঘটে, যা তাকে খেলাধুলা ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তোলে। 

শিশুকে খেলাধুলা করার সুযোগ করে দিতে হবে। খেলাধুলা করার পর কিছু সময় বিশ্রাম নিলে শারীরিক ক্লান্তি দূর হয়। যে সমস্ত শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি বেশি, তারা অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এদের ঘুমের প্রয়োজন হয় বেশি। সাধারণত ৯-১০ ঘণ্টা ঘুমাতে পারলে একটি শিশুর সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়। বয়স অনুসারে নিচে ঘুমানোর একটি চার্ট দেওয়া হলো-
  1. ৫ থেকে ৭ বছর বয়স পর্যন্ত ঘুমের প্রয়োজন ১০-১১ ঘণ্টা।
  2. ৮ বছর থেকে ১১ বছর বয়স পর্যন্ত ঘুমের পরিমাণ ৯-১০ ঘণ্টা হওয়া প্রয়োজন।
  3. ১২ থেকে ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত ঘুমের প্রয়োজন ৮-৯ ঘণ্টা।
  4. ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স পর্যন্ত ঘুমের পরিমাণ প্রয়োজন ৬-৮ ঘণ্টা হওয়া প্রয়োজন।
উপরের তালিকা অনুযায়ী সময় মত ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠা নিয়ম নিজেদের মধ্যে গড়ে তোলা উচিত।

আমাদের শেষ কথা

এই আর্টিকেলটির মূল বিষয় ছিল বিশ্রাম, ঘুম ও বিনোদনের প্রয়োজনীয়তা এবং ঘুমের উপকারিতা। আর আমরা ইতিমধ্যে আপনাদেরকে এ সকল বিষয়ের সম্পর্কে ধারণা দিয়েছি। আশা করব আমাদের দেওয়া তথ্য থেকে আপনারা বিশ্রাম ঘুম ও বিনোদন এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা পেয়েছেন। আমাদের এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করে দিবেন যাতে অন্যরাও এরকম তথ্য বহুল পোস্ট এবং আর্টিকেল পড়তে পারে। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url